,


সংবাদ শিরোনাম:
«» তাহিরপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে বিষপানে এক নারীর আত্মহত্যা «» সাঈদীর মুক্তি চেয়ে পদ হারিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা «» তাহিরপুরে নদী থেকে যুবলীগ সভাপতির বালু উত্তোলন «» তামাবিলে অসহায় শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ «» সিলেট জেলা পুলিশের উদ্যোগে গোলাপগঞ্জে হত দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ «» তাহিরপুরে সর্দি কাশিতে গার্মেন্টস কর্মীর মৃত্যুঃ পুরো ফেমিলি লকডাউন, এলাকায় আতঙ্ক «» ধর্মপাশা উপজেলায় ৫ হাজার অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ «» জগন্নাথপুরে লোকসমাগমে বিয়ের আয়োজন,কনের বাবাকে অর্থদণ্ড «» তামাবিলে অসহায় শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ «» খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হচ্ছে: হ্যান্ড স্যানিটাইজার

গোলাপগঞ্জে দ্বিতীয় বিয়ে করতে এসে পুলিশের খাঁচায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছাঈদুর রহমান

গোলাপগঞ্জে দ্বিতীয় বিয়ে করতে এসে পুলিশের খাঁচায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছাঈদুর রহমান

মোঃ আব্দুল আজিজ(বাবর):
গোলাপগঞ্জে দ্বিতীয় বিয়ে করতে এসে পুলিশের খাঁচায় বন্দি হলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছাঈদুর রহমান (৩০)। রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের একটি অভিজাত পার্টি সেন্টারে বিয়ে করতে এসে এ যুবক পুলিশের হাতে আটক হন। আটককৃত যুবক ছাইদুর রহমান সিলেটের জালালাবাদ থানার হাওসা গ্রামের ফজলুল হকের পুত্র।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারী ছাইদুুর রহমান সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার লাউতলা গ্রামের কাচা মিয়ার কন্যা শাহিনা  আক্তার রুমিকে বিয়ে করেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী জামাতার কাছে নিজ কন্যাকে বিয়ে দিতে কাচা মিয়া কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করেন। শুধু বিয়ের খরচ নয় প্রবাসী জামাতার বিশেষ প্রয়োজনে তিনি প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ঋণও দিয়েছিলেন। বিয়ের পর ছাইদুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্ত্রী ও শ্বশুড় বাড়ীর লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করলে সম্পর্কের অবনতি হয়। এরপর ছাইদুর রহমান প্রথম স্ত্রী শাহিনাকে রেখে কোন অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ের জন্য গোলাপগঞ্জের এক মসজিদের ইমামের কন্যাকে পছন্দ করেন। এক পর্যায়ে ছাঈদুর রহমান বিদেশে থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে তাদের আক্দ সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়টি জানতে পেরে প্রথম স্ত্রী শাহিনা আক্তার রুমি সিলেট অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ছাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা (সি.আর মামলা নং-৫৪/২০২০) দায়ের করেন।
এদিকে ছাইদুর রহমান বিয়ের জন্য গত শুক্রবার দেশে আসেন। দেশে এসে তিনি গোলাপগঞ্জ ডাকবাংলা এলাকায় একটি রেডি ফ্লাট ভাড়া নেনে। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা ক্রমে সিদ্ধান্ত হয় রোববার সন্ধ্যায় গোলাপগঞ্জের একটি পার্টি সেন্টারে ছাইদুর রহমান নতুন স্ত্রীকে বরণ করবেন। বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করে প্রায় ৩শ মানুষের খাবারের আয়োজন করা হয়। গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছাইদুর রহমান বরের পোশাক পরে বিয়ের আসরে যাবার জন্য প্রস্তুতি নিলে সেখানে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ হাজির হয়। এসময় পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ছাইদুর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান,  যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে আসার পূর্বে ছাইদুর রহমান আমাত কাছে দাবী করেন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গরা তার গাড়ী আটক করে তাকে মারধর করে সব টাকা পয়সা নিয়ে গেছে। বিয়ে করতে হলে যে টাকার প্রয়োজন সে টাকা তার কাছে নেই। তাকে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ দিলে সে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তা পরিশোধ করবে। নতুন জামাতার কথায় বিশ্বাস করে গোলাপগঞ্জের হবু শ্বশুড় গত শুক্রবার ৩ লক্ষ টাকার ব্যবস্থা করে তার হাতে তুলে দেন।
এব্যাপারে ছাইদুর রহমানের প্রথম স্ত্রী শাহিনা  আক্তার রুমির বাবা কাচা মিয়া জানান, অনেক আশা করে আমার মেয়েকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছাইদুর রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। সে আমার মেয়েকে বিয়ে করার পর নানা ভাবে তালবাহানা করে নগদ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা নিয়েছে। এছাড়াও বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে আরো প্রায় ৮/৯ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
Share

Comments are closed.