,


সংবাদ শিরোনাম:
«» বিশ্বম্ভপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন রাহাতের জন্মদিন উদযাপন «» মৃত্যু   «» জগন্নাথপুরে বেরীবাঁধের কাজে অনিয়ম এলাকাবাসীর অভিযোগ «» শাবিপ্রবির উপাচার্যসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল «» আগামীকাল জৈন্তাপুর উপজেলা আ’লীগের কার্যবাহী কমিটির প্রথম সভা «» নগরীতে সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবি «» ধর্মপাশায় হযরত খাজা মঈন উদ্দিন চিশতি (রঃ) এর স্মরণে ৪১তম ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত «» সুনামগঞ্জ পৌরসভার সহিফা-সমরু নামে নতুন একটি সড়কের উদ্বোধন «» প্রশাসনের আশ্বাসে মৌলভীবাজারে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে «» জকিগঞ্জ সোসাইটি অব ইউএসএ ইন্ক’র অর্থায়নে ১ হাজার শীর্তাত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ শুরু হচ্ছে আজ

সিরাজগঞ্জ, ১৭ এপ্রিল, ২০১৮ : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর যাত্রা শুরু হচ্ছে। আজ ১৭ এপ্রিল মঙ্গলবার ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে ক্লাশ শুরুর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০১০ সালে রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। ঘোষণার পরই কুষ্টিয়া ও শাহজাদপুরবাসী তাদের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
কুষ্টিয়াতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থাকায় আঞ্চলিক বিবেচনায় এই বিশ্ববিদ্যালয় শাহজাদপুরে স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। সরকারি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সদস্যগণ একাধিকবার শাহজাদপুরের বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন শেষে উপজেলার বুড়ি পোতাজিয়া মৌজায় রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব গোচারণ ভূমিতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জায়গা নির্ধারন করেন। এই স্থান থেকে তিনশত একর ভূমি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
শাহজাদপুরের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্ত্রীর জাতীয় অনুষ্ঠানে ২০১৫ সালের ২৫ বৈশাখ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই জাতীয় সংসদে ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ’ আইন পাশ হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষকে ২০১৭ সালের ১১জুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি ১৫ জুন উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবল নিয়োগসহ সকল কাজকর্ম শুরু করেন। আটমাসের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও অবকাঠামো নির্মাণের জায়গা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেন।
নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় দ্রুত ক্লাশ শুরু করার লক্ষে স্থানীয় সাংসদ হাসিবুর রহমান স্বপনের প্রচেষ্টায় পৌরশহরের শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজ, বঙ্গবন্ধু মহিলা ডিগ্রী কলেজ ও মওলানা সাইফুদ্দিন এহিয়া ডিগ্রী কলেজের তিনটি নবনির্মিত একাডেমিক ভবনে প্রশাসনিক কার্যালয় স্থাপন ও ক্লাশ শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। এই তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক ভবনসহ প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত বিনা ভাড়ায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করতে পারবে এই মর্মে চুক্তিও সম্পাদন করা হয়।
রবীন্দ্র অধ্যায়ন, সাংষ্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন এবং অর্থনীতি এই তিনটি বিভাগে ১১৫জন ছাত্রছাত্রী ভর্তির জন্য আবেদন গ্রহন করার পর চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভর্তির লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২৪ ও ২৫ মার্চ মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৫ এপ্রিল তিনটি বিভাগে ৯৭জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আগামীকাল ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবসে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করা হবে।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেহেলী লায়লা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনশত একর জমি বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে একশত একর জমির সীমানা নির্ধারন করা হয়েছে। বাদ বাকি জমিগুলোর প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এগুলো নিরসনের কাজ চলছে। নিরসন হলে আপাতত দুইশত একর ভূমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বাকীটা গ্রহন করতে একটু সময় লাগবে।
সংসদ হাসিবুর রহমান বলেন, শাহজাদপুরে রবীন্দ্রবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে শাহজাদপুরবাসীর দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। দাবি আদায়ের জন্য নানা কর্মসুচিও পালন করেছে শাহজাদপুরবাসী। প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় কবির জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী কথা রেখেছেন-শাহজাদপুরে বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছেন। তাঁর ঋণ শাহজাদপুরবাসী কোনদিন ভুলবেনা।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, প্রাথমিকভাবে শিক্ষক নিয়োগসহ অনান্য কর্মচারি নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনটি বিভাগে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয়েছে। তিনটি কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে। পর্যায়ক্রমে বিভাগের সংখ্যা বাড়বে। এজন্য তিনি শাহজাদপুরবাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

Share

Comments are closed.