,


সংবাদ শিরোনাম:

শনিবার টাংগুয়ার হাওরে জ্যোৎস্না উৎসব

শনিবার টাংগুয়ার হাওরে জ্যোৎস্না উৎসব

 

নাজমুল হাসান রাসেল ,তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ):

পূর্ণিমাতে সীমাহীন বিশাল জলরাশির মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলে জীবনানন্দ দাশের ‘আমি আবার আসিব ফিরে, ধান সিড়িটির তীরে’ এই বাংলায় কবিতা আবৃত্তিকরতে করতে দেখতে পারেন পশ্চিমাকাশে সূর্য হেলে যাবার পর মাথার উপরে থাকবে সীমাহীন নীল আকাশ। আকাশে খইক্ষেতের সোনালী ফুলের মতো অজস্র তারার ঝলকানি। প্রকৃতির এই উদার হাতছানি পর্যটকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মোহময় সৌন্দর্য্যের
মুগ্ধ করে তোলে আশপাশের পরিবেশ আর প্রকৃতিও।

১২থেকে ১৫সেপ্টেম্বর পূর্ণিমায়(পূর্ন ফসল চাঁদ)হাওরে জ্যোৎস্না স্নান নিয়ে আসে পর্যটক ও ভ্রমন পিপাসুদের মনে স্বর্গীয় অনুভূতি। তাই টাংগুয়ার
হাওরে পর্যটকদের মিলন মেলায় বর্ষায় ভড়া পূর্ণিমায় অথৈই জলে রূপালি ঢেউ,ছোটবড় নাও,জল জ্যোৎস্না স্নান অবগাহনে ডাকছে টাংগুয়ার হাওর।
টাংগুয়ার হাওর বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট। এ হাওরের আরেক নাম নয় কুড়ি কান্দার ছয় কুড়ি বিল। হাওর বিশাল উন্মুক্ত মিঠাপানির জলাশয়ের আয়তন প্রায় ১০০বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রতি বর্ষা মৌসুমে হাওরে ঢল নামে।

 

আর হাওর-জল-জ্যোৎস্না অবগাহেন ডাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সৌন্দর্য পিপাসু আর পর্যটন প্রিয় হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন আসছে। পর্যটকদের আগমন চলতি মাসের ১২থেকে ১৫সেপ্টেম্বর কয়েক গুন বেড়ে যাবে বলে জানান স্থানীয় এলাকাবাসী।

গত কয়েক বছর পূর্বে টাংগুয়ার হাওরকে আকর্শনীয় ভাবে সবার সামনে তুলে ধরেন জোছনা উৎসব করে তাহিরপুর উপজেলার সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি জানান,আগামী শনিবার(১৪সেপ্টেম্বর)আশা করি সবাইকে নিয়ে এই আনন্দ উৎসবটি করতে প্রশাসনসহ সবাই সহযোগীতা করবে। রুপালি চাঁদের অবারিত জ্যোৎস্না কাঁচের মত স্বচ্ছ জলে মরীচিকার সৃষ্টি হবে। তবে এবার টাংগুয়ার হাওরে জ্যোৎস্না উৎসব না করে মাটিয়ার হাওরে উৎসব করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। থাকবে বাউল গানসহ কিছু আয়োজন। বিশাল জলরাশি হাওরের
বুকে নৌকায় রাত্রি যাপন করে জোছনা উপভোগে পর্যটকদের আগমন বেড়ে যায়।

তিনি আরো বলেন,বিকালে সীমাহীন আকাশ থেকে চোখ চলে যাবে দিগন্তের কাছাকাছি সেখানে হাওরের বুকে হিজল আর করচের সারি মাঝে সুর্যস্তাতের মনোরম দৃশ্য। তার পেছনে উঠবে রুপালি চাঁদ এ এক ভিন্ন রখম পরিবেশ।

নৌকার মাঝি জুয়েল মিয়া জানান,পূর্নিমায় হাওরের বুকে জোছনা দেখতে পর্যটক টাংগুয়ার হাওরে নৌকায় রাত্রি যাপন করবেন। আগত পর্যটকদের কাছ থেকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নৌকার ভাড়া নির্ধারিত নৌকার ভাড়াই নেয়া হবে। সবার সাথে আমরাই উপভোগ করব এই পূর্নিমা।
পূর্নিমাতে পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদারের ব্যবস্থা নিয়েছে তাহিরপুর থানার ও সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ। তাদের সমন্বয়ে বিশেষ ২টি টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানান তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতিকুর রহমান। তিনি আরো জানান,পর্যটকদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য তারা সার্বক্ষনিক কঠোর নজদারী ও যে কোন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা গ্রহন করবে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য নৌকার মাঝিরাও সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

যেভাবে যাবেন:-
ঢাকা থেকে শ্যমালি,হানিফ বা এনার বাসে সরাসরি সুনামগঞ্জ ৫৫০টাকা ভাড়া। সুনামগঞ্জ থেকে লেগুনা,সিএনজি অথবা মটর সাইকেলে জনপ্রতি ১০০টাকা তাহিরপুর। এই সব যানবাহন যে কোন টা থেকে নেমেই একটু পায়ে হেটেই পেয়ে যাবেন নৌকা। দরদাম করে ঠিক করে নিতে পারেন ৫ থেকে ১২হাজার টাকার ভেতরে।

Share

Comments are closed.