,


সংবাদ শিরোনাম:
«» শর্তসাপেক্ষে ২০০ কোটি টাকা বিটিআরসিকে দিতে রাজি গ্রামীণফোন «» তাহিরপুর সীমান্তে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার «» মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে ইয়াবা ও হিরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। «» মৌলভীবাজারে বর্নাঢ্য আয়োজনে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত «» শেরপুর ফাঁড়ি পুলিশের অভিযানে মাদক বিক্রেতা আটক, উদ্ধার ৪১ পিছ ইয়াবা «» গোলাপগঞ্জে উত্তেজনা, কমিটি ঘোষণা না করেই কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্মেলনস্থল ত্যাগ «» তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ: পিএসসিতে সরকারের চিঠি «» জগন্নাথপুরে প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা সহ ৪ জনকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড «» সিলেট বিভাগে সম্মাননা পেলেন ৩৫ করদাতা «» আইয়ুব বাচ্চুর ‘সেই তুমি’ অবলম্বনে নাটক

টাঙ্গুয়া হাওরের ‘জ্যোৎস্না উৎসব’ নিয়ে খোলা চিটি

টাঙ্গুয়া হাওরের জ্যোৎস্না উৎসব‘ নিয়ে খোলা চিটি

সোহানুর রহমান সোহাগ

১৪ সেপ্টেম্বর তাহিরপুর টাঙ্গুয়ার হাওরে ‘জ্যোৎস্না উৎসব’ আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা ও পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তাহিরপুর উপজেলার সাবেক  চেয়ারম্যান, কামরুজ্জামান কামরুল। স্থানীয় অনেক নেতা কর্মী এই আলোচনা সভায় উপস্থিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে একই তারিখ এবং একই সময়ে জ্যোৎস্না উৎসব হবে, কিন্তু হাজারো মানুষের উদ্দিপনা, আনন্দ উল্লাস ক্ষণিকের সময়ে চুরমার করে দেন স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

কেন হঠাৎ করে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন জেলা প্রশাসক ?

উল্লেখ্য যে ২০১৭ সালে, তাহিরপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও হাওর বন্ধু কামরুজ্জামান কামরুলের উদার আহবানে ২০১৭ সালে অনেক আনন্দঘটা, অনেক উচ্ছাস ও স্থানীয় মানুষের প্রেরণায় জ্যোৎস্না উৎসব আয়োজন করেন। এই উদ্দ্যোগে ফলে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই প্রকার ব্যতিক্রম আয়োজনে। সারাদেশে জুড়ে এমনকি আন্তর্জাতিকভাবে এই আয়োজন প্রসংশিত হয়।

জ্যোৎস্না উৎসবের প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলে বেড়ে যায় পর্যটকদের আনাগোনা। যার ফলে অনেকাংশ মানুষ জীবিকার সন্ধান পান আগত অতিথির আগমনে। এইসব বিশেষ বিবেচনা করেই এইবারের মত টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিপ্রেক্ষিতে মাটিয়ান হাওরে উৎসবের আয়োজনের পরিকল্পনা করেন এই অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ।

আগত অতিথিদের কথা মাথা রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অনেক দূরদুরান্ত হতে অতিথি যারা আসবেন তারা যেন কোন প্রকার দূর্ঘটনায় পতিত না হয় সেইজন্য গ্রামের পাশে জ্যোৎস্না উৎসবের পরিকল্পনা করা হয়। কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগের সুম্মখিনের স্বীকার না হতে হয় তাই সেই জন্য নিকটবর্তী হাওরে জ্যোৎস্না উৎসবের স্থান নির্ধারণ করা হয়।

বিগত বছর গুলিতে তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন খাতে হাওর অঞ্চলকে কেন্দ্র করে মানুষের যে আয়  ছিল,বর্তমান সময়ে তার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি আয় হচ্ছে।পার্শ্ববর্তী উপজেলা ,ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর থেকে নৌকার যোগান দিতে হয় পর্যটকদের জন্য।

সেই সাথে, সিএনজি, লেগুনা,রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেলে থাকে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সে আয় টা আমরাই ভোগ করছি। হাওর পাড়ের মানুষ ভোগ করছে। জীবন অর্থনীতির সমৃদ্ধি লাভ করছে।
 সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল সুনামগঞ্জ একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে শলা-পরামর্শ করেছিলেন।মানসিক প্রস্তুতিও ছিল। সেই থেকে পরিবেশ বাদীরা এর বাঁধা হয়ে দাড়ালেন। তারা যদি বাঁধা না দিয়ে কিভাবে পরিবেশের ক্ষতি না করে একটি অনুষ্ঠান সফল করা যায় সে পরামর্শ দিতেন হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটত তাহির পুরের হাওরকে কেন্দ্র করে। আজকের দেশ ব্যাপী যে পরিচিতি ও পর্যটন এলাকা হিসেবে তাহিরপুরের নাম যোগ হয়েছে এর পিছনে ২০১৭ সালের টাঙ্গুয়া জ্যোৎস্না উৎসব থেকেই সূচনা।
এর উদ্দ্যেক্তা ও ছিলেন হাওর বন্ধু কামরুজ্জামান কামরুল।
মিডিয়া ও সাংবাদিক ভাইদেরও অবদান অনস্বীকার্য, তাদের অবদানের কারণে আরোও পরিচিতি লাভ করেছে আমাদের এই তাহিরপুর উপজেলা।তাহিরপুর বাসী দল মত নির্বিশেষে উজ্জীবিত ছিলেন ঐ দিন।
যাক, পরিবেশের দোহাই দিয়ে যদি পরিবেশবিদরা পরিবেশ ভালো রাখতে পারেন সবার জন্যই মঙ্গল। কিন্তু অনেক সময় ব্যাক্তি স্বার্থ হাসিল, তৃতীয় পক্ষের কাজ হাসিল করতে গিয়ে পরিবেশ বাদীরা যদি নিজের কাঁদে জোয়াল তুলে নেন, তাহলে প্রশ্ন জাগে টাংগুয়ার হাওরে লক্ষ লক্ষ পানির বোতল, বিদেশী বোতল ভেসে বেড়ায় এর জন্য আপনারা কি করেছেন ? হেমন্ত সীজনে শত শত গাছ কাটা যাচ্ছে তা নিয়ে কি করেছেন ? পর্যটকদের প্রতিদিনের হাজার হাজার পলিথিন ব্যাগ পানিতে ভেসে  থাকে এর জন্য কি উদ্দ্যেগ নিয়েছেন ? নৌকার মাঝিদের নিয়ে পরিবেশ রক্ষায় কয়দিন মিটিং করেছেন ? হাওরের জীব বৈচিত্র্য নিয়ে কি কি উদ্দ্যেগ গ্রহন ও কার্যকর করেছেন কয়টা ? NGO হাওরে কি কি কাজ সম্পাদন করে তা নিয়ে কি করেছেন ?
তাই বলি সামাজিক কাজ সম্পাদন করতে যারা রাজনীতি ও কোন রাজনৈতিক নেতাদের স্বার্থে নিজেদের ব্যাক্তিত্ব কে বিসর্জন দেয় তারা পরিবেশ ও সমাজের জন্য কতটুকু করতে পারবে তা সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষজন ভালো বুঝবেন।


পরিশেষে ক্ষুদ্র পরিসরে আমরা ১৪ তারিখ দিবাগত রাত্রি যাপন করেছি হাওরেই।কলাপাতায় খিচুরিও খেয়েছি।দেহ বেঁধে দিলেও মন ত আর বাঁধা যায় না গো সই।।
১৭ সালের মত আয়োজন টা বড় হলে পরিবেশের কত টা ক্ষতি হয়ে যেত আর এলাকার কত টা লাভ হত তার মাপ কাটি আপনাদের কাছেই রেখে দিলাম।

Share

Comments are closed.