,


সংবাদ শিরোনাম:

কে এই মাফিয়া ডন আজিজ মোহাম্মদ ভাই?

কে এই মাফিয়া ডন আজিজ মোহাম্মদ ভাই?

 

আজিজ মোহাম্মদ ভাই  কেউ তাকে বলেন মাফিয়া, কেউ তাকে ভাবেন গডফাদার কিংবা ডন। হত্যা ও মাদক পাচারসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ ও অকালপ্রয়াত নায়ক সোহেল চৌধুরীর মৃত্যুতে তার হাত আছে বলে গুঞ্জন আছে। ৫০টির মত চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন তিনি।

 

 

আজ রবিবার বিকেলে আজিজ মোহাম্মদ ভাই’র গুলশান-২-এর ৫৭ নম্বর রোডের ১১/এ বাসা থেকে সিসা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, গাঁজা এবং ক্যাসিনো সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক খুরশিদ আলম।

আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাসায় অভিযান চালানো হলে তিনি দেশে থাকেন না বলে জানা গেছে। তিনি সপরিবারে থাইল্যান্ডে বসবাস করছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। সেখান থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করেন।

আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের স্ত্রী নওরিন মোহাম্মদ ভাই দেশে এসে ব্যবসা দেখেন। আজিজ মোহাম্মদের ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে।

 

বাংলাদেশের রহস্যময় ব্যক্তিদের তালিকা করলে প্রথমদিকেই থাকবে যার নাম। যাকে নিয়ে আছে নানা গল্প, নানা রহস্য। আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে নিয়ে এসব গল্পের বেশিরভাগই চলচ্চিত্র জগতের নারী ও হত্যা কেন্দ্রিক। এ গল্পের কতটুকু সত্য আর কতটুকু মুখরোচক বা মিথ্যা সে নিয়েও আছে নানা মত।

১৯৪৭ এ দেশভাগের পর তাদের পরিবার ভারতের গুজরাট থেকে বাংলাদেশে আসে। তাদের পরিবার মূলত পারস্য বংশোদ্ভুত। তারা ‘বাহাইয়ান’ সম্প্রদায়ের লোক। ‘বাহাইয়ান’ কে সংক্ষেপে ‘বাহাই’ বলা হয়। উপমহাদেশের উচ্চারণে এই ‘বাহাই’ পরবর্তীতে ‘ভাই’ হয়ে যায়। ধনাঢ্য এই পরিবার পুরান ঢাকায় বসবাস শুরু করে। ১৯৬২ সালে আজিজ মোহম্মদ ভাইয়ের জন্ম হয় আরমানিটোলায়। আজিজ মোহাম্মদ ভাই তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইস্পাত প্রযোজকের পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে নিযুক্ত ছিলেন।  তিনি সার্ক চেম্বার অফ কমার্সের আজীবন সদস্য।  অলিম্পিক ব্যাটারী, অলিম্পিক বলপেন, অলিম্পিক ব্রেড ও বিস্কুট, এমবি ফার্মাসিটিউক্যাল, এমবি ফিল্ম ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের মালিক আজিজ মোহাম্মদ ভাই। এছাড়াও মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং, সিঙ্গাপুরে রয়েছে তার হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসা। মাদক ব্যাবসার সাথে তার জড়িত থাকার প্রমাণও পাওয়া গেছে। তিনি সার্ক চেম্বারের আজীবন সদস্য। মুম্বাই এর ডন দাউদ ইব্রাহিমের সাথে রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

১৯৯৭ সালে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহকে  হত্যা করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। যদিও হত্যাকাণ্ডের সময় থাইল্যান্ডে ছিলেন আজিজ। কিন্তু সেটাকে আত্নহত্যা বলেই প্রচার করা হয়। যদিও সালমান শাহ এর পরিবার ও তার ভক্তদের ধারণা এটা হত্যাকান্ড।সালমানের স্ত্রী সামিরারও থাইল্যান্ড এ বসবাস সন্দেহকে বাড়িয়েই দেয়। সেই ঘটনা আবার তুমুল আলোচনার ঝড় তুলে সালমানের বিউটিশিয়ান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী রাবেয়া সুলতানা রুবির ফেসবুকে তুলে ধরা এক ভিডিওবার্তায়।

 

সালমান শাহের মৃত্যুর দুই বছর পর ১৯৯৯ সালে ঢাকা ক্লাবে খুন করা হয় আরেক চিত্র নায়ক সোহেল চৌধুরী কে। এ হত্যাকাণ্ডেও আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও তার পরিবারের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।

চলচ্চিত্র অভিনেতা সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার আসামি আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে ২০১৩ সালের জুন মাসে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)। দেশের সামাজি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার হুমকি হয়ে ওঠার অভিযোগে ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তখন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

Share

Comments are closed.