,


সংবাদ শিরোনাম:
«» ধর্মপাশা চেয়ারম্যান কতৃক শিতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ উপস্থিত এম পি রতন «» গোলাপগঞ্জের পৌর এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত «» প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার ৭৮৯ রাজাকারের তালিকা প্রকাশ «» মধ্যনগর রামধানা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট কতৃক মসজিদ নির্মাণ  «» সিলেট থিয়েটার মুরারিচাঁদ আয়োজিত ” পথ নাটক ও সাংস্কৃতিক উৎসব ” সম্পন্ন «» তাহিরপুরে লেপ-তোষকের দোকানে অগ্নিকান্ডে দুই লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি «» তাহিরপুরে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বেকাররা «» শাবি শিক্ষার্থীদের পাটকল শ্রমিকের ১১ দফা আদায়ে মৌনমিছিল ও মানববন্ধন «» শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশবিদ্যালয়:- প্রেস বিজ্ঞপ্তি «» মধ্যনগর বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এম পি রতন এর বিনম্র শ্রদ্ধা’র’ মিছিল

৩ বছরের সোহা মনি বেঁচে নেই, জানে না বাবা-মা’

৩ বছরের সোহা মনি বেঁচে নেই, জানে না বাবা-মা’

 

দুটি ট্রেনের বেশিরভাগ যাত্রী যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই বিকট শব্দ ঘুম ভাঙে সবার। দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে উদয়ন এক্সপেস ট্রেনের পেছনের কয়েকটি বগির আসনে থাকা যাত্রীরা সামনের সিটের সঙ্গে ধাক্কা খায়। মুহূর্তেই ঘুম ভাঙে সবার। কিছুক্ষণ আগেও যেখানে বিরাজ করছিল সুনসান নীরবতা, মুহূর্তের মধ্যে সেখানে শুরু হয় মানুষের গণনবিদারী চিৎকার। আবার অনেকে ঘুমের মধ্যেই চলে যান না ফেরার দেশে।

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সোহেল মিয়া, স্ত্রী, ২ সন্তান ও চাচাতো ভাইকে নিয়ে সিলেট থেকে চট্টগ্রামে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। এজন্য রাতে তারা আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেসে ওঠেন। ট্রেনে পরিবারের কেউ তখন ঘুমে, কেউবা আধোঘুমে। হয়তো স্বপ্নও দেখছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তাদের জীবনের সব স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়ে যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নীশিথার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ কেড়ে তাদের কন্যাসন্তানকে। সোহা মনি (৩) হবিগঞ্জ থেকে বাবা, মা ও ভাইয়ের সাথে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে যাচ্ছিলেন চট্রগ্রামে বাবার কর্মস্থলে।

 

এই দুর্ঘটনার খবর গণমাধ্যমে জানতে পেরে হবীগঞ্জ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন সোহার মামা জামাল উদ্দিন। তিনি হাসপাতালের কোথাও সোহাসহ কাউকে খুঁজে পাননি। পরে হাসপাতালের মর্গে শিশু সোহার মরদেহ দেখতে পান।

পরবর্তীতে সোহার বাবা সোহেল মিয়া, মা নাজমা বেগম ও সোহার ভাই সোহাগের (৫) খোঁজ পান। কিন্তু তাদের মধ্যে শিশু সোহাগের অবস্থা কিছুটা ভাল থাকলেও সোহার মায়ের দুটি পা ও একটি হাত দুর্ঘটনায় পুরাপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। আর সোহার বাবা সোহেল মিয়ার দুইটি পা দুর্ঘটনায় হারিয়ে গেছে।

সোহার মামা জামাল উদ্দিন বলেন, সোহাদের বাড়ি হবীগঞ্জের বানিয়াচংয়ে। তার বাবা সোহেল চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টসে চাকুরির সুবাধে তারা সেখানে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। গত ৪/৫দিন আগে বাড়িতে বেড়াতে আসে। সোমবার রাতে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পথে এই ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, সোহার মা-বাবাকে জানানো হয়নি সে যে মারা গেছে। তাদেরকে বলা হয়েছে সে অসুস্থ। সোহার মা, বাবা ও ভাইকে এম্বুলেন্স যোগে হবীগঞ্জে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোহার মরদেহ নিতে আমি রয়ে গেছি। কিন্তু সোহার মা-বাবা তাকে দেখতে চাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ এলকায় দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন

সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তূর্ণা নিশিথা ও সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সাথে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

Share

Comments are closed.