,


সংবাদ শিরোনাম:

জগন্নাথপুরে সড়কের কাজ নিয়ে কেন এতো লুকোচুরি সাংবাদিক দেখলেই সটকে পড়েন কর্তৃপক্ষ

জগন্নাথপুরে সড়কের কাজ নিয়ে কেন এতো লুকোচুরি সাংবাদিক দেখলেই সটকে পড়েন কর্তৃপক্ষ

 

মো.আলী হোসেন খান ::জগন্নাথপুর::

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে রাণীগঞ্জ সেতুর এপ্রোচ সড়ক কাজ নিয়ে লুকোচুরি শুরু হয়েছে। কেন এই লুকোচুরি কেউ জানেন না। সাংবাদিক দেখলেই সটকে পড়েন কর্তৃপক্ষ। যে কারণে কিভাবে কাজ হওয়ার কথা, হচ্ছে কিভাবে জানা যাচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের এমন লুকোচুরিতে জনমনে নানা প্রশ্নের দেখা দিয়েছে।

জানাযায়, প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে কুশিয়ারা নদীর উপর রাণীগঞ্জ সেতুর কাজ চলছে। মুল সেতুর কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএম বিল্ডার্স লিমিটেড। তাদের কাজ প্রায় শেষ প্রান্তে রয়েছে। তবে রাণীগঞ্জ সেতুর দুই দিকের প্রায় ২ কিলোমিটার এপ্রোচ সড়কের কাজ পায় এমআইএফ ইন্টারন্যাশনাল নামের আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এপ্রোচ সড়কে রোলার মেশিন দিয়ে মাটি বসানোর কাজ চলছে।

৭ ডিসেম্বর শনিবার সরজমিনে দেখা যায়, একটি রোলার মেশিন বারবার ঘুরেফিরে সড়কের বালু মাটি বসানোর কাজ করছে। এ সময় আরো ২ জন শ্রমিক পাইপ দিয়ে বসানো মাটিতে পানি দিচ্ছেন। সড়কের কিছু স্থানে সামান্য ইটের সুরকি মিশ্রিত মাটি দেখা গেলেও অধিকাংশ স্থানে শুধু মাটি বসানো হচ্ছে। এ সময় কাজের দায়িত্বে থাকা কাউকে পাওয়া যায়নি।

তখন রোলার চালক পারভেজ বলেন, স্যারদের সড়কের পাশে থাকা একটি লাল ঘরে পাবেন। সেখানে গেলে পাওয়া যায় কাজের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার নাদিম খানকে। এ সময় নাদিম খান বলেন সড়কে কিভাবে কাজ হওয়ার কথা ও হচ্ছে কিভাবে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এ বিষয়ে জানেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার মিঠু ও স্বপন। তাঁরা কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন তারা সিলেট চলে গেছেন। আশি শুধু লেবারদের মজুরি দিয়ে থাকি। জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, কোন ইঞ্জিনিয়ারের মোবাইল নাম্বার আমার জানা নেই। এমনকি আমার নাম্বারও আমি জানি না।

এ সময় উপস্থিত পথচারীদের মধ্যে অনেকে বলেন, হাস্যকর কথা শোনালেন নাদিম খান। আসলে এখানে কেমন কাজ হচ্ছে কেউ জানেন না। এর আগেও সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যান। অবশেষে খোঁজে পাওয়া গেলেও তারা সদোত্তর দিতে পারেননি। এসব ঘটনা নিয়ে স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কত টাকা ব্যয়ে এ এপ্রোচ সড়কে কাজ হচ্ছে। মাটির সাথে ইটের সুরকি নাকি পাথর থাকার কথা। কবে শুরু হয়েছে এবং কবে শেষ হবে। তা অজানা রয়ে গেলো। রীতিমতো ধুম্্রজালের সৃষ্টি হয়েছে এখানে। তাই রাণীগঞ্জ সেতুর এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ কাজের রহস্যঘেরা বিবরণ জানতে চান সর্বস্তরের জনতা। জনতার অবগতির সড়ক নির্মাণ কাজের বিবরণ সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সাইনবোর্ড লাগাতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Share

Comments are closed.