,


সংবাদ শিরোনাম:

ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে সরগরম হয়ে উঠেছিলি শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা:

ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে সরগরম হয়ে উঠেছিলি শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা:

 

আব্দুস সামাদ আজাদ – মৌলভীবাজার:   

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় কুশিয়ারা নদীর  পশ্চিম পাড়।  কুয়াশায় চারপাশ ঢাকা পড়েছে সন্ধ্যা নামার আগেই। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কনকনে হাওয়ায় ভর করে বাড়ছে শীত। এমন হিমঝরা রাতে লেপ-কাঁথার মধ্যে না ঢুকে চাদর-মাফলারে কান-মাথা মুড়ে সবাই যাচ্ছেন নদীর পাড়ে।

গত সোমবার (১৩ জানুয়ারী)  রাতে সেখানে বসেছিল মাছের মেলা। বৈদ্যুতিক বাতি আর কুপির আলোয় ঝলমলে বড় বড় র“ই-কাতলা আর চিতল-বোয়ালের র“পালি শরীর। পাইকার আর খুচরা ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে শীতের রাতে সরগরম হয়ে উঠেছিল কুশিয়ারার পাড়।

পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে কুশিয়ারা নদীর পশ্চিম পাড়ে মাছের এই মেলা বসে প্রায় অর্ধশত বছর ধরে। স্থানীয় লোকজনের মতে, এই মেলা একসময় বসত মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখে। পরে মনুমুখ বাজারটি নদীভাঙনের কবলে পড়লে মেলাটি সরে যায় শেরপুর এলাকার হামরকোনায়। সেখান থেকে পরে কুশিয়ারার পাড়ে।

এখানে রাত গভীর হলেই শুর“ হয় বেচাকেনা। দূর-দূরান্ত থেকে মাছ নিয়ে যেমন বিক্রেতারা আসেন, তেমনি আসেন পাইকারেরা ও খুচরা ক্রেতারা। একসঙ্গে বড় আকারের বিভিন্ন জাতের এত মাছ দেখার সুযোগ হাতছাড়া না করতে আসেন অনেক দর্শকও। তাঁরা ঘুরে ঘুরে মাছ দেখেন, দাম জানতে চান।

মেলার মধ্যে ঢুকতেই চোখে পড়ে আড়তে আড়তে স্তূপ করা ছোট-বড় নানা জাতের মাছ। মাছ কিনতে মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন পাইকারেরা। একেকটি আড়তে মাছের বাক্স-পেটরা খোলা হয়, আর দরদাম হাঁকা নিয়ে চলছে চিৎকার-চেঁচামেচি।

সোনার বাংলা  মৎস্য আড়তের পরিচালক রাজু আহমদ বলেন, মাছের মেলা এ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্য। মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকাটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। বৃহত্তর সিলেটের মধ্যে মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন হাওর-নদীর মাছ ছাড়াও খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন স্থানের মাছ আসে। এক রাতে এখানে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়।

বেশ কিছু বড় মাছ নিয়ে বসে ছিলেন আয়াছ মিয়া। প্রায় ৩০ কেজি ওজনের আইড় মাছটির দাম জানতে চাইলে তিনি হাঁকলেন ৭০ হাজার টাকা। পাশের প্রায় ১৭ কেজি ওজনের একটি বোয়াল মাছের দাম চাইলেন ২৫ হাজার, ২৫ কেজির একটি বাঘাড়ের দাম ৩৫ হাজার টাকা। মাছের এমন দাম শুনে আশপাশের অনেকের চোখ ছানাবড়া অবস্থা দেখে জানালেন, এ রকম দামের অনেক মাছ রাত ১২টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে।

সকাল-সন্ধ্যা মাছের আড়তের ডালায় সাজানো দুটি বাঘাড়ের একটির ওজন ৪৫ কেজি, অন্যটির ৩২ কেজি। বড়টির দাম জানতে চাইলে আড়তের কর্মী নাসির আহমেদ দাম হাঁকলেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তাঁর আড়তে ৩০ কেজি ওজনের একটি বোয়ালও ছিল। সেটির দাম চাইলেন ৬০ হাজার টাকা।

স্হানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ওলিউর রহমান বলেন  , চিতল, কালবাউসসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় আট হাজার টাকার মাছ কিনে থলে ভরে ফেলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেরা চিতল মাছ চেনে না। মেলায় বড় চিতল পেলাম, তাই কিনেছি। কাঁটাঅলা মাছ। না খেলেও অন্তত চিনতে তো পারবে।

 

Share

Comments are closed.